আমাদের পরিচিতি

বাংলাদেশ মসজিদ মিশন

বাংলাদেশ মসজিদ মিশন একটি স্বেচ্ছাসেবী, সমাজকল্যাণমূলক ও মানব উন্নয়নধর্মী সংস্থা, যা ১৯৭৩ সালে ২৫ শে নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে নিবন্ধিত যার সমাজ কল্যাণ রেজিষ্ট্রেশন নং: ঢ-০৪০৯ এবং এনজিও রেজিষ্ট্রেশন নং: ৬৫৬। মরহুম মাওলানা আলাউদ্দিন আল-আযহারীর নিবেদিত নেতৃত্বে এবং দেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, আলেম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের যাত্রা শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ মসজিদ মিশন মানুষের সামাজিক, নৈতিক, আধ্যাত্মিক ও মূল্যবোধভিত্তিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থাটি বিশ্বাস করে, মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়; বরং এটি নৈতিক চেতনা, শিক্ষা, মানবসেবা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি কার্যকর কেন্দ্র হতে পারে। এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মসজিদ মিশন মসজিদভিত্তিক সমন্বিত কমিউনিটি উন্নয়নের ধারণাকে বাস্তবায়নে কাজ করছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ। দেশের দুই লক্ষাধিক মসজিদ এবং বিপুলসংখ্যক ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিন সমাজের নৈতিক ও মানবিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বাংলাদেশ মসজিদ মিশন এই সম্ভাবনাকে জাতি গঠন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, সামাজিক সেবা এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারের মাধ্যমে কাজে লাগাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংস্থার মূল লক্ষ্য হলো মসজিদকে কেন্দ্র করে এমন একটি উন্নয়নধর্মী সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ নৈতিকতা, সততা, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিক চেতনায় সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ মসজিদ মিশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, মানুষের উন্নয়নই জাতির প্রকৃত উন্নয়ন; আর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই উন্নয়নের পথ সুদৃঢ় করা সম্ভব।

বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের মসজিদভিত্তিক সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতীকী ছবি
মসজিদভিত্তিক শিক্ষা, মানবসেবা ও সমন্বিত কমিউনিটি উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের পথচলা।

মূল লক্ষ্য ও পথচলা

আমাদের ভিশন ও মিশন

ভিশনের প্রতীক হিসেবে লক্ষ্য ও দূরদর্শিতার আইকন

ভিশন

মসজিদের মাধ্যমে একটি প্রগতিশীল, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠন করা, যা কুরআন ও হাদিসের আলোকে পরিচালিত হবে এবং দুর্নীতি, অন্যায় ও অপকর্ম থেকে মুক্ত থাকবে।

মিশনের প্রতীক হিসেবে মসজিদভিত্তিক সমাজসেবার আইকন

মিশন

  • মসজিদে নববী-এর আলোকে মসজিদকে ইসলামের একটি জীবন্ত কেন্দ্রে পরিণত করা, যা মানুষের সব ধরনের সমস্যা ও দুর্দশার সমাধানে কাজ করবে।
  • জনগণের আর্থ-সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়ন সাধন করা।

বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

বাংলাদেশ মসজিদ মিশন মসজিদকে কেন্দ্র করে নৈতিক, আধ্যাত্মিক, শিক্ষাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি সমন্বিত সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও কমিউনিটির মানুষকে সংগঠিত করে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনাই সংস্থার অন্যতম অঙ্গীকার।

মূল লক্ষ্য

পবিত্র মদিনা নগরীতে আমাদের মহানবী (সা.)-এর পবিত্র মসজিদের আদর্শ অনুসরণ করে বাংলাদেশের সকল মসজিদকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত অর্জন করা।

  1. বাংলাদেশের সকল মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের অধীনে সংগঠিত করা, যাতে তারা মসজিদকেন্দ্রিক সমাজের নারী, পুরুষ ও শিশুদের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।

  2. মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) প্রদত্ত দায়িত্ব ও কার্যক্রম যথাযথভাবে পালনের জন্য ইমাম, মুয়াজ্জিন ও সংশ্লিষ্ট জনশক্তিকে সক্রিয় করা।

  3. মুসলমানদের কুরআন ও হাদিসের সঠিক জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করা এবং সেই জ্ঞানের আলোকে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে উৎসাহিত করা।

  4. কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নৈতিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনমান উন্নয়নে ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সমাজে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল জীবন গঠনে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

  5. অন্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি সুস্থ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বনির্ভর অর্থনৈতিক জীবন গড়ে তুলতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।

  6. জনগণকে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে নিয়মিত ও সচেতন করার জন্য দাওয়াহ ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।

  7. সমাজ থেকে নিরক্ষরতা, কুসংস্কার ও অনৈতিক প্রবণতা দূর করে জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।

  8. ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর বস্তিবাসীদের নৈতিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন করা।

  9. ৪-৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সুসংগঠিত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে তাদের ভর্তি, প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

  10. প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থেকে ঝরে পড়া ৬-১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা, যাতে তারা পুনরায় শিক্ষা ব্যবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

  11. ১৫-৩৫ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য চলমান নন-ফরমাল শিক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালী ও সম্প্রসারণ করা।

  12. নবশিক্ষিতদের জন্য জীবনব্যাপী, ব্যবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা।

  13. কমিউনিটির মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ ও সুবিধা প্রদান করা, যাতে তারা পরিবারে সুস্থ ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারে।

  14. পরিবারে সঠিক স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করা।

  15. পরিকল্পিত দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির মাধ্যমে লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা।

    • উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ
    • ইন্টিগ্রেটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফোরাম
    • ইমাম মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশন অব মসজিদ মিশন
    • ডেভেলপমেন্ট অব অরফানস অ্যাকমোডেশন
  16. এতিম, পরিত্যক্ত, অসহায় ও পথশিশুদের খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, বস্ত্র ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করা, যাতে তারা সুন্দর, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে।

প্রধান কার্যক্রম

ইসলামী শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মসূচি

কুরআন শিক্ষা, ইমাম প্রশিক্ষণ, মসজিদ উন্নয়ন, ইয়াতিমদের সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনসহ সমাজের নৈতিক, শিক্ষাগত ও মানবিক উন্নয়নে আমাদের ধারাবাহিক কার্যক্রম।

ইসলামী শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের প্রতীকী চিত্র
শিক্ষা, দাওয়াহ, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবসেবাকে কেন্দ্র করে সমন্বিত কর্মসূচি।
  • সহীহ কোরআন তালিম

  • ইমাম প্রশিক্ষণ

  • মসজিদ উন্নয়ন

  • আদর্শ কুরআন হিফযখানা

  • একাডেমি ও গণশিক্ষা

  • উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা

  • কম্পিউটার প্রশিক্ষণ

  • হজ্জ প্রশিক্ষণ

  • ভাষা কোর্স

  • ইয়াতিমখানা

  • ত্রাণ ও পুনর্বাসন

  • স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সেবা